ফেসবুকে আপনার পণ্যের বিক্রয় রকেট গতিতে বাড়াতে যা করবেন।

How to increase your facebook sale?

ফেসবুক বুস্ট কি 

সাধারণভাবে বুস্ট করা মানে হচ্ছে কোন কিছু  বাড়ানো। ফেসবুক বুস্ট করা মানে হচ্ছে আপনি যে ফেসবুক পেইজ দিয়ে আপনার পণ্য মানুষের কাছে প্রদর্শন করেন সেই পেইজটিকে আরো বেশি বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে আপনার ফেসবুক ব্যবসা আরো লাভজনক করা।

ফেসবুক বুস্ট কেন করবেন

আপনি সাধারণ  কোন ব্যাবসায়ি হোন বা অনলাইন ব্যাবসায়ি হোন  আপনার একটাই লক্ষ্য কিভাবে বিক্রয় বৃদ্ধি করা যায়। যেমন লাক্স এর উদাহরণ  ধরুন।  আমার জন্মের পর থেকে যদি আমি কোন সাবানের  নাম বিশেষ করে গায়ে দেয়ার সাবানের নাম মনে রাখি তাহলে আমার মাথায় প্রথম যে নামটা আসে সেটা হচ্ছে  লাক্স।।  

কেন হচ্ছে কারণ জন্মের পর থেকে আমি লাক্সের নাম শুনে আসছি। কিভাবে? সহজ । বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। তাই লাক্স ব্যবহার নিয়ে আমার মধ্যে কোন দ্বিধা নেই। দোকানে গেলে আমি নির্দ্বিধায় লাক্স কিনে নিয়ে চলে আসছি।

একবার লাক্সের সিইও কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে লাক্স এত জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেন এত বিজ্ঞাপন করা হয়।  তিনি তখন এরোপ্লেনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন যে দেখুন এই প্লেনটা যেমন ইঞ্জিনেৱ  কারণে ভেসে আছে এবং ঠিকমত চলছে তেমনি  লাক্স এত জনপ্রিয়তা ধরে রাখার পিছনে কারণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন না থাকলে লাক্স অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।

আমাদের সমস্যাটা কোথায় আমরা মনে করি যে বিজ্ঞাপন হচ্ছে  খরচ। আসলে ব্যাপারটা তা না। বিজ্ঞাপন হচ্ছে আপনার ইনভেস্টমেন্ট  যা অনেক গুন হয়ে আপনার কাছে ফিরে আসতে পারে।

 আজকাল হাজার হাজার মানুষ তাদের ফেসবুক পেজকে একারণেই প্রমোট করছ… কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন যে একমাত্র বুষ্টের মাধ্যমে তারা তাদের পেইজকে  আরেকজন মানুষের সামনে নিয়ে যেতে পারেন এবং তাদের পণ্যগুলোকে প্রদর্শন করতে পারেন এবং ই-কমার্স বাণিজ্যের একটি সহজ সূত্র হচ্ছে যে, যার পণ্য যত বেশি দেখা যাবে তার পণ্য ততো বেশি বিক্রি হবে।

 ধরুন আপনি খুব ভালো যুগান্তকারী কোন একটা পণ্য আবিষ্কার করলেন। যা আপনি মনে করেন যে মানুষের কাজে লাগবে এবং মানুষ সেটা কিনতে অবশ্যই আগ্রহী হবে এবং এর দামও আপনি এমন রাখলেন যে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে এটার জন্য।  কিন্তু আপনি আপনার দোকান সেট করলেন মরুভূমির মাঝখানে। যেখানে কোন মানুষ জন আসা-যাওয়া করে না তাহলে আপনার পণ্য কে কিনবে? কেউই না। কারণ কেউ দেখছেই না।

 এখন আপনি শতভাগ নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেন যে আপনার গ্রাহকরা ফেসবুকে আছে। খুব কম মানুষই আছে যার কোনো ফেসবুক একাউন্ট নেই এবং প্রতিটি মানুষই প্রতিদিন ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটাচ্ছে  এবং মানুষ আজকাল এত অলস যে তারা কয়েক ঘণ্টা মার্কেটে গিয়ে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে পণ্য কিনতে অনেকটা অনীহা বোধ করে। 

বরং তারা তাদের ফোন থেকে সহজে এক ক্লিকে পণ্য কিনতে পছন্দ করে যা তাদের ঘরের দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছে যায় সহজে তাহলে আপনি কি চাইবেন না আপনার  আপনার পন্য এই  গ্রাহক গুলোর কাছে যাক? অবশ্যই চাইবেন। 

 আপনার প্রশ্ন জাগতে পারে যে কিন্তু ফেসবুকে টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়ার কি দরকার আমার তো অনেক বন্ধু রয়েছে।  হ্যাঁ কিন্তু এভাবে আপনি  বেশি  মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না আপনি অনেক জনপ্রিয় মানুষ হলেও। ৫০০ মানুষের কাছে পৌছানোও একটা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার এবং অনেক সময় সাপেক্ষ।

 এক্ষেত্রে ফেসবুক আপনাকে সাহায্য করবে  আপনার টার্গেট করা  মানুষের কাছে পৌঁছাতে।  এ টার্গেট করা মানুষ কারা?  যাদের আপনি মনে করেন আপনার পণ্যের মূল গ্রাহক  যেমন ধরুন  আপনার পন্য হচ্ছে থ্রি পিস এখন আপনি যদি থ্রি পিস বিক্রি করার জন্য পুরুষদের টার্গেট করেন সেক্ষেত্রে আপনি বুঝতেই পারছেন কি হবে…

এবং থ্রি পিস এর জন্য বাচ্চা মেয়েদের কে বা বৃদ্ধ মহিলাদের কেউ টার্গেট করার কোন দরকার নেই।   থ্রি পিস মূলত পড়ে থাকে  টিনেজার মেয়ে থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী মহিলারা পর্যন্ত।  তাদের বয়স কত হতে পারে? ধরুন.১৫ থেকে  ৬০ বছর। ফেসবুক আপনাকে অপশন দেয় যে আপনার বিজ্ঞাপন শুধুমাত্র পনেরো থেকে ষাট বছর বয়সি মেয়ে দেখতে পাবে।যদি চান শুধু গৃহিনীরা দেখতে পাবে তাও পারবেন আর যদি চান কর্মজীবি মহিলারা দেখতে চায় তাও দেখাতে পারেন।

আপনি যে ধরনের মানুষ টার্গেট করতে চান তাদেরই টার্গেট করতে পারবেন। যে এলাকার মানুষ টার্গেট করতে চান পারবেন। এবং আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন ফেসবুক আপনাকে যে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে বলে ওয়াদা করেছে সে পরিমাণ মানুষের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেবে। .

খরচ

ফেসবুক বুস্ট ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০০ টাকার ও করা যায়। এটা আপনার নির্ভর করে আপনি কি ধরনের রেজাল্ট চান? সাধারণত মানুষ ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে। 

তবে ৫০০ টাকায় আগে যে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌছানো যেতো এখন সে পরিমাণ মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব হয় না।কিছুদিন আগে ও এই টাকায় প্রায় ১৭০০০ হাজার মানুষের কাছে যাওয়া যেতো।কিন্তু ডিমান্ড বাড়ার সাথে সাথে ফেসবুক দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন এই টাকায় মাত্র ২০০০-২৫০০ মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন যায়।

এখন ধরুন আপনি যে পণ্য বিক্রি করছেন তাতে লাভ থাকে ১০০ টাকা। এখন ৫০০ টাকায় যে বিজ্ঞাপন করছেন তা পৌছে যাচ্ছে ২০০০ মানুষের কাছে। যদি ধরি ২০ জন মানুষ আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী হয় আপনি লাভ পাচ্ছেন ২০০০ টাকা। বিজ্ঞাপন খরচ বাদ দিলে থাকে.১৫০০ টাকা।কিন্তু এই ৫০০ টাকার বিজ্ঞাপন সবার কাছে যেতে লাগবে ৫-৭ দিন।

প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ টাকা করে মাসে থাকবে ৬/৭ হাজার টাকার মত। 

একই ভাবে আপনি যদি বিজ্ঞাপনের টাকা বাড়িয়ে ১০০০ করে দেন আপনার খরচ বাদ দিয়ে থাকবে ৩০০০ টাকা প্রতি সপ্তাহে। যার মানে হচ্ছে বিজ্ঞাপনের টাকা বাড়ালে আপনার ইনকাম বাড়ার সুযোগ ও বাড়বে।

ওয়েবসাইট কেন প্রয়োজন?

নিশ্চয় জানেন ফেসবুক নিজেই একটা ওয়েবসাইট। যার মধ্যে সে আপনাকে সুযোগ করে দিচ্ছে ব্যবসা করার।ফেসবুকের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন আপনার যদি ৮-১০ টা পণ্যের ছবি থাকে আপনি সব একসাথে দেখাতে পারবেন না।

প্লাস চিহ্নের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় চারের অধিক ছবি।খুব কম মানুষই এত খুটিয়ে আপনার সব কিছু দেখতে যাবে।

আবার প্রতিটি পণ্যের ছবি আলাদা করে দেখানোটাও অনেক বিরক্তকর একটা ব্যাপার আপনার ও আপনার পেইজের ফলোয়ারদের জন্য। বিরক্ত হয়ে অনেকে আপনার পেইজই আনলাইক করে দিতে পারে।

এছাড়াও ফেসবুক যারা বুস্ট করে তারা জানেন পেইজে যদি ১ লক্ষ ফলোয়ার থাকে আপনার প্রতিটি পোস্ট সবার কাছে ফেসবুক পৌছে দেয় না। তাই দেখবেন লক্ষ লক্ষ পেইজে ফলোয়ার থাকে পেইজ গুলোর নরমাল পোস্টে লাইক কমেন্ট থাকে মাত্র ১০/২০ টা।এটা কেন হয়? কারণ ফেসবুক সমাজসেবা করতে আসে নাই। 

ফেসবুকের মূল ইনকামের একটা হচ্ছে বুস্ট। ফেসবুক তখনই আপনাকে রেজাল্ট দিবে যখন আপনি পয়সা খরচ করবেন।নতুবা আপনার পোস্ট তারা আপনার পেইজের ফলোয়ারদের দেখাবেই না।কারণ এভাবে ফ্রিতে দেখালে আপনি আর টাকা খরচ করবেন না।

কিন্তু গুগলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন না। গুগল সবাইকেই ফেয়ার চান্স দেয়।যে কারণে আপনি ভালো কিছু  দিলে আপনি যেই হোন না কেন টাকা খরচ করেন আর না করেন গুগল আপনাকে চান্স দেবে।

এখন আপনার যদি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে কি হবে? 

ওয়েবসাইট হচ্ছে স্মার্ট ব্যবসায়িদের এপ্রোচ। পৃথিবীতে মানুষ প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে কিছু সার্চ করতে চাইলে তা করে গুগলে। এখন আপনার যদি থ্রি পিস এর একটা ওয়েবসাইট থাকে তবে যেসব বাঙালি মেয়েরা থ্রি পিস এর নতুন ডিজাইন গুগলে (যা ফেসবুকে কেউ খুজবেনা) খুজছে তারা গিয়ে পৌছাবে আপনার সাইটে যেখানে আপনি দোকানের মত করে সাজিয়ে রেখেছেন দেশি বিদেশী থ্রি পিস।তারা তাদের ইচ্ছামতো বেছে বেছে থ্রি পিছ কিনতে পারছে।

পণ্যের পুরো বর্ণনা দেখতে পাচ্ছে। যত খুশি তত পন্যের ছবি দেখতে পাচ্ছে। কালার সাইজ সেলেক্ট করতে পারছে। এবং পেমেন্ট করছে। সব কিছুই অটোমেটিক।টাকা পে করার পর আপনার কাজ হচ্ছে শুধু পণ্য পৌছে দেয়া।

ফেসবুকের পেইজে এটা সম্ভব না। আপনাকে বসে থাকতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা কখন অর্ডার আসবে। কাস্টমার অনেক প্রশ্ন করবে তার উত্তর দেয়া।তারপর সেল করা এবং পৌছে দেয়া।

কিন্তু ওয়েবসাইটে যে মানুষগুলো আপনি আনতে পারবেন(এসইও করে) এগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি। এ জন্য আপনাকে কাউকে এক টাকা ও দিতে হবে না। এবং এই মানুষগুলোর ৫০ ভাগই একবারে কেনার মত কাস্টমার যারা বিভিন্ন নতুন ডিজাইনের থ্রি পিস কিনতে আগ্রহী।এদের আপনি চাপাচাপি করছেন না।এরা নিজেরাই আপনাকে খুজে আপনার কাছে আসছে।

এছাড়া ও আপনার যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে এটা আপনার ফেসবুক পেইজের বিশ্বস্তার প্রমাণ।আপনার ওয়েবসাইট আপনার গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে যে আপনি কোনও ফ্রড নন। কারণ ফেসবুক পেইজ যে কেউ বানিয়ে ব্যবসায়ি সাজতে পারে।কিন্তু ওয়েবসাইট বানিয়ে সেটার পিছনে শুধুমাত্র খাটি ব্যবাসায়িরা কাজ করে।

ফেইসবুক পেইজের তুলনায় ওয়েবসাইট আপনাকে অনেক বেশি লাভ দিতে পারে যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় কাজ করেন। দেশীয় বড় বড় হোলসেলাররাও গুগলে সার্চ করে লোকাল হোলসেলারদের বের করেন। 

এবার আপনি ভাবুন তাদের কাছ থেকে একটি অর্ডার আপনাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে। এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো পৃথিবীকেই টার্গেট করতে পারেন যদি আপনি সেই লেভেলে যেতে চান। এবং পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইকমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।

আপনি যদি ভেবে থাকেন, “আমি কখনোই ওয়েবসাইট পরিচালনা করিনি। আমি কি পারবো?” উত্তর হচ্ছে যদি আপনি ফেসবুক সেটিং করতে জানেন বা ফেসবুক চালাতে জানেন তাহলে ওয়েবসাইট ও চালাতে পারবেন।

যদি বড় কিছু করতে চান, নিজের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চান সেক্ষেত্রে আপনি আপনার জন্য একটি ওয়েবসাইট অপরিহার্য।আর যদি আপনি বড় কিছু না করে শুধুমাত্র খুচরা ব্যবসায়ী হিসেবে থাকতে চান সেক্ষেত্রে সাধারণ এ্কটি ফেসবুক পেইজ যথেষ্ট।

খরচ

ওয়েবাসাইটের সুবিধার তুলনায় ওয়েবসাইটের খরচ অনেক কম। ডোমেইন বা নাম কিনতে বেশি হলে ১০ ডলার বা ৮৫০টাকা লাগবে। হোস্টিং বা ওয়েবসাইটের মেমোরি কিনতে লাগবে ১৫-২০ ডলার বা ১৫০০- ১৭০০ টাকা। আর প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে নেয়ার খরচ পড়বে ১০০০-১৫০০ টাকার মতো(যদিও এটা ডিপেন্ড করে ব্যাক্তিভেদে)। মোট খরচ পড়বে ৩৫০০/৪০০০ টাকার মত। যা পুরো ১ বছরের জন্য একবারই। হিসাব করলে প্রতি মাসে খরচ আসে ৩০০/৩৫০ টাকার মত। যা আপনার প্রতি মাসের ফেসবুক বুস্টের খরচ থেকেও অনেক অনেক কম।

সুতরাং যদি আমাকে বলা হয় আমি দুটোই করার কথা বলবো। যা আমি নিজের বিজনেসের জন্য ও করছি। আমি কোনো দিক থেকেই আমার কাস্টমার হারাতে চায় না।

সবার প্রতি শুভকামনা।

বিঃদ্রঃ এখানে শুধু থ্রি পিস এর উদাহরণ আনলেও সব পণ্যের ক্ষেত্রেই উপরোক্ত কথাগুলো খাটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *